মহাপ্রভুর নীলাচল লীলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রেম বিলানো। তিনি যবন হরিদাস ঠাকুরকে আলিঙ্গন করেছিলেন, প্রতাপরুদ্র রাজার অহংকার চূর্ণ করে তাঁকে সেবায় নিযুক্ত করেছিলেন। সুমন ভট্টাচার্যের কণ্ঠে যখন এই প্রসঙ্গের বর্ণনা শোনা যায়, তখন শ্রোতারা অনুভব করতে পারেন যে ভক্তি কেবল শাস্ত্রীয় তর্কে সীমাবদ্ধ নয়, তা হৃদয়ের গভীর অনুভূতি।
সুমন ভট্টাচার্যের গাওয়া 'নীলাচলে মহাপ্রভু' কীর্তনটি মূলত মহাপ্রভুর অন্ত্যলীলার করুণ ও মধুর রসের সংমিশ্রণ। কীর্তনের মাধ্যমে ফুটে ওঠে কীভাবে মহাপ্রভু গম্ভীরায় (তাঁর অতি ক্ষুদ্র বাসকক্ষ) দিবানিশি কৃষ্ণনামে মত্ত থাকতেন। তাঁর বিরহ-বেদনা, চোখের জল এবং কৃষ্ণের জন্য সেই আকুলতা—যাকে 'মহাভাব' বলা হয়—তা এই কীর্তনের মূল উপজীব্য।
নীলাচলে মহাপ্রভু: প্রেম ও ভক্তির পরম গন্তব্য
"নীলাচলে মহাপ্রভু" বিষয়টি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সন্ন্যাস জীবনের এক অত্যন্ত গভীর ও আবেগময় অধ্যায়। সুমন ভট্টাচার্য তাঁর সুললিত কণ্ঠে 'লীলা কীর্তন'-এর মাধ্যমে মহাপ্রভুর এই নীলাচল বা পুরী ধামের দিনগুলোর যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা ভক্ত হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। নিচে এই বিষয়ের ওপর একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ উপস্থাপিত হলো:
নীলাচলে মহাপ্রভু কেবল একজন সন্ন্যাসী হিসেবে থাকেননি, তিনি ছিলেন জীবন্ত প্রেমের বিগ্রহ। তাঁর নীলাচল লীলা আমাদের শেখায় যে ব্যাকুলতা ও ত্যাগের মাধ্যমেই পরমেশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব। সুমন ভট্টাচার্যের কণ্ঠে এই লীলা কীর্তন আমাদের সেই দিব্য অনুভূতির আস্বাদন করিয়ে দেয়, যা শতাব্দী প্রাচীন হলেও আজও সমান প্রাসঙ্গিক। মহাপ্রভুর সেই 'হরে কৃষ্ণ' মহামন্ত্র আর তাঁর নীলাচলের দিনগুলো বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।